মদিনা শরীফ · ১ হিজরি

প্রথম মসজিদে নববী শরীফ (সুন্নাতী মসজিদ)

হিজরতের পর মদিনা শরীফে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথমেই এই মসজিদ তৈরি করেন, আর নিজ হাত মুবারকে কাঁচা ইট বহন করে নির্মাণে অংশ নেন। দেয়াল কাঁচা ইটের, খুঁটি খেজুর গাছের কাণ্ডের, ছাদ খেজুরের ডালের, মেঝে মাটি ও কংকরের। ভেতরে হেঁটে দেখুন, আর প্রতিটি সোনালি চিহ্নে ক্লিক করে জানুন তার হাদিস ও সুন্নাত।

হাদিস ও সীরাতের বর্ণনা অনুযায়ী এটি একটি আনুমানিক পুনর্নির্মাণ: কিবলা পরিবর্তনের পরের মসজিদ, প্রায় ৩০ × ৩৫ মিটার। তিন ধাপের মিম্বার শরীফ পরে (৭-৮ হিজরি) তৈরি হয়েছিল, পরিচয়ের জন্য এখানে রাখা হয়েছে। সঠিক মাপ ও খুঁটির সংখ্যা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না।

W A S D হাঁটা মাউস টেনে চারদিকে দেখা জিনিসে ক্লিক করে তথ্য

মসজিদে নববী শরীফের (সুন্নাতী মসজিদ) দর্শনীয় স্থান

হাদিস ও সীরাতের বর্ণনা অনুযায়ী এটি একটি আনুমানিক পুনর্নির্মাণ: কিবলা পরিবর্তনের পরের মসজিদ, প্রায় ৩০ × ৩৫ মিটার। তিন ধাপের মিম্বার শরীফ পরে (৭-৮ হিজরি) তৈরি হয়েছিল, পরিচয়ের জন্য এখানে রাখা হয়েছে। সঠিক মাপ ও খুঁটির সংখ্যা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না।

নির্মাণ

নিজ হাত মুবারকে নির্মাণ

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উটনী যেখানে বসেছিল, সেই জমি ছিল বনু নাজ্জারের দুই ইয়াতিম বালক হযরত সাহল ও হযরত সুহাইল রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা উনাদের। উনারা বিনামূল্যে দিতে চাইলেও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মূল্য দিয়ে কিনে নেন। জমির খেজুর গাছ কেটে কাণ্ডগুলো খুঁটি বানানো হয়, আর ছাঁচে মাটি ঢেলে কাঁচা ইট তৈরি করা হয়। আনসার ও মুহাজির সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম উনাদের সাথে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও ইট বহন করেন।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম উনাদের সাথে ইট বহন করছিলেন আর বলছিলেন: “আয় আল্লাহ! আখিরাতের কল্যাণই আসল কল্যাণ, আপনি আনসার ও মুহাজিরদের ক্ষমা করুন।”সহীহ বুখারী ৪২৮, ৩৯০৬
তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত মসজিদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “সেটি তোমাদের এই মসজিদ।”সহীহ মুসলিম ১৩৯৮
সুন্নাতআল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণে অংশ নেওয়া: যে আল্লাহর জন্য মসজিদ বানায়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ঘর বানান (সহীহ বুখারী ৪৫০)।
নির্মাণ

কাঁচা ইটের দেয়াল

নিচে প্রায় দেড় মিটার পাথরের ভিত, তার উপর রোদে শুকানো কাঁচা ইট (লাবিন) দিয়ে দেয়াল, গায়ে মাটির প্রলেপ। দেয়াল ছিল প্রায় একজন মানুষের উচ্চতার কিছু বেশি। ছাদের পানি বের করতে দেয়ালে খেজুর কাঠের নালা বসানো।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় মসজিদ ছিল কাঁচা ইটের তৈরি, ছাদ খেজুরের ডালের, আর খুঁটি খেজুর গাছের কাণ্ডের।সহীহ বুখারী ৪৪৬
সুন্নাতমসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিময় রাখা (সুনানে আবু দাউদ ৪৫৫)।
নির্মাণ

খেজুর কাণ্ডের খুঁটি

জমির খেজুর গাছ কেটে তার কাণ্ড সারি সারি খুঁটি হিসেবে দাঁড় করানো হয়, তার উপর ছাদের বীম। পরে এই খুঁটিগুলোর অনেকগুলো নিজস্ব নামে পরিচিত হয়: উস্তুওয়ানা হান্নানা, আয়িশা, তাওবা, সারীর, হারস, উফূদ।

হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু মসজিদের একটি খুঁটির কাছে নামাজ পড়তেন। কারণ জিজ্ঞেস করা হলে বললেন: আমি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এই খুঁটির কাছে নামাজের চেষ্টা করতে দেখেছি।সহীহ বুখারী ৫০২
সুন্নাতমসজিদে প্রবেশ করে বসার আগে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়া (সহীহ বুখারী ৪৪৪)।
নির্মাণ

খেজুর ডালের ছাদ

কিবলার দিকের অংশ ছাদে ঢাকা, বাকিটা খোলা আঙিনা। খেজুর কাণ্ডের বীমের উপর খেজুরের ডাল বিছিয়ে মাটির পাতলা প্রলেপ। ফাঁক দিয়ে রোদ এসে মেঝেতে আলোর ছোপ ফেলত, আর ভারী বৃষ্টিতে পানি চুইয়ে পড়ত।

হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, মসজিদের ছাদ ছিল খেজুরের ডালের। এক রাতে বৃষ্টি হলো, ছাদ থেকে পানি পড়ল। আমি দেখলাম নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানি ও কাদার উপর সিজদা করছেন, আর উনার কপাল মুবারকে কাদার চিহ্ন।সহীহ বুখারী ৬৬৯
নামাজ

কিবলার দেয়াল ও নামাজের স্থান

প্রথম প্রায় ষোল-সতের মাস নামাজ হতো উত্তরে বাইতুল মাকদিসের দিকে। আল্লাহ তাআলা কাবা শরীফের দিকে মুখ ফেরানোর আদেশ দিলে কিবলা দক্ষিণে চলে আসে: পুরনো উত্তরের দরজা বন্ধ করে নতুন দরজা খোলা হয়, আর ছাদ দেওয়া নামাজের অংশ দক্ষিণের দেয়ালে আসে। এই দেয়ালের সামনেই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইমাম হয়ে দাঁড়াতেন। তখন দেয়ালে কোনো খাঁজকাটা মিহরাব ছিল না।

“অতএব আপনি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরান।”সূরা বাকারা ২:১৪৪
হযরত বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ষোল বা সতের মাস বাইতুল মাকদিসের দিকে নামাজ পড়েছেন, আর উনি চাইতেন কিবলা কাবা শরীফের দিকে হোক।সহীহ বুখারী ৩৯৯
সুন্নাতকাতার সোজা ও মিলিয়ে দাঁড়ানো, কারণ কাতার সোজা করা নামাজ পূর্ণ হওয়ার অংশ (সহীহ বুখারী ৭২৩)।
নামাজ

মিম্বার শরীফ

প্রথমে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি খেজুর কাণ্ডে হেলান দিয়ে খুতবা দিতেন। মুসল্লি বাড়লে কিবলার দেয়ালের সাথে তিন ধাপের মিম্বার তৈরি হয়, যার কাঠ আনা হয় মদিনার কাছের গাবা বনের ঝাউ (আসল) গাছ থেকে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দাঁড়িয়ে ও বসে খুতবা দিতেন।

হযরত সাহল ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, মিম্বারটি গাবা বনের ঝাউ কাঠ দিয়ে তৈরি, এক আনসারী মহিলার কাঠমিস্ত্রি গোলাম এটি বানিয়েছিলেন।সহীহ বুখারী ৯১৭
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আমার মিম্বার আমার হাউজের উপর।”সহীহ বুখারী ১১৯৬
সুন্নাতজুমার খুতবা চুপ করে মনোযোগ দিয়ে শোনা: খুতবার সময় পাশের জনকে “চুপ করো” বলাও অনর্থক কাজ (সহীহ বুখারী ৯৩৪)।
বরকতময় স্থান

উস্তুওয়ানা হান্নানা — কান্নারত খেজুর কাণ্ড

মিম্বার তৈরির আগে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই খেজুর কাণ্ডে হেলান দিয়ে খুতবা দিতেন। মিম্বারে উঠার পর কাণ্ডটি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরহে উটনীর মতো শব্দ করে কাঁদতে থাকে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নেমে এসে এর উপর হাত মুবারক রাখলে তা শান্ত হয়। এখানে যে খুঁটি আছে, পরে তা হান্নানা নামে পরিচিত হয়।

হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা বলেন, আমরা খেজুর কাণ্ডটি থেকে দশ মাসের গর্ভবতী উটনীর মতো কান্নার আওয়াজ শুনলাম, যতক্ষণ না নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নেমে এসে এর উপর হাত মুবারক রাখলেন।সহীহ বুখারী ৩৫৮৫
বরকতময় স্থান

রিয়াদুল জান্নাহ — জান্নাতের বাগান

পূর্ব দিকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুজরা শরীফের দরজা থেকে পশ্চিমে মিম্বার শরীফ পর্যন্ত এই অংশ। এখানে খেজুর পাতার চাটাইয়ের উপর নামাজ হতো।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আমার ঘর ও আমার মিম্বারের মাঝের স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান।”সহীহ বুখারী ১১৯৬, সহীহ মুসলিম ১৩৯১
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আমার এই মসজিদে এক নামাজ মসজিদুল হারাম ছাড়া অন্য মসজিদের হাজার নামাজের চেয়ে উত্তম।”সহীহ বুখারী ১১৯০
বরকতময় স্থান

হুজরা শরীফের দরজা

মসজিদের পূর্ব দেয়ালের সাথে লাগোয়া আম্মাজানগণ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুন্না উনাদের হুজরা শরীফ, যাদের দরজা মসজিদের দিকে খুলত। দক্ষিণ-পূর্ব কোণে আম্মাজান আয়িশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা উনার হুজরা শরীফ। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই পর্দা সরিয়েই মসজিদে তাশরীফ আনতেন।

আম্মাজান আয়িশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিকাফে মসজিদে থাকা অবস্থায় হুজরা শরীফের ভেতরে আমার দিকে মাথা মুবারক বাড়িয়ে দিতেন, আর আমি চুল মুবারক আঁচড়ে দিতাম।সহীহ বুখারী ২০২৯
মসজিদের জীবন

ইতিকাফের তাঁবু

রমযানের শেষ দশকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে ইতিকাফ করতেন। ইতিকাফের জন্য মসজিদের ভেতরে ছোট তাঁবু খাটানো হতো।

আম্মাজান আয়িশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন, আর ফজরের নামাজের পর ইতিকাফের স্থানে প্রবেশ করতেন। আমি উনার জন্য একটি তাঁবু খাটিয়ে দিতাম।সহীহ বুখারী ২০৩৩
সুন্নাতরমযানের শেষ দশকে মসজিদে ইতিকাফ করা (সহীহ বুখারী ২০২৬)।
মসজিদের জীবন

সুফফা

কিবলা পরিবর্তনের পর উত্তরের দেয়ালের পাশে ছাদ দেওয়া এই ছায়াঘেরা স্থানটি সুফফা। যে গরিব সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম উনাদের ঘর-পরিবার ছিল না, উনারা এখানে থাকতেন, ইলম শিখতেন। হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ছিলেন উনাদের একজন।

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, আহলে সুফফা ছিলেন ইসলামের মেহমান। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে হাদিয়া এলে নিজে কিছু রেখে উনাদের পাঠাতেন, আর সাদকা এলে সবটাই উনাদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। একদিন এক পেয়ালা দুধ দিয়ে সুফফার সবাইকে তৃপ্ত করে পান করানো হয়।সহীহ বুখারী ৬৪৫২
সুন্নাতখাবার ভাগ করে খাওয়া: দুইজনের খাবার তিনজনের জন্য যথেষ্ট (সহীহ বুখারী ৫৩৯২)।
মসজিদের জীবন

কংকরের মেঝে

প্রথমে মসজিদের মেঝে ছিল খালি মাটি। বৃষ্টির পর কাদা হয়ে গেলে সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম কাপড়ে করে কংকর এনে নিজ নিজ নামাজের জায়গায় বিছিয়ে দিতেন। এভাবেই মেঝেতে কংকর বিছানো হয়।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা বলেন, এক রাতে বৃষ্টি হলো। সকালে লোকেরা কাপড়ে করে কংকর এনে নিজের জায়গায় বিছিয়ে দিচ্ছিল। নামাজ শেষে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা দেখে বললেন: “কত সুন্দর!”সুনানে আবু দাউদ ৪৫৮
নামাজ

বাবুর রহমত

কিবলা পরিবর্তনের পর মসজিদের তিনটি দরজা ছিল: পশ্চিমে এই দরজা, যা পরে বাবুর রহমত নামে পরিচিত হয়; পূর্বে হুজরা শরীফের দিকে দরজা, যা পরে বাবে জিবরীল নামে পরিচিত; আর উত্তরের দেয়ালে নতুন দরজা। দরজায় কাঠের কপাট ছিল না।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে যেন বলে: “আল্লাহুম্মাফ তাহলী আবওয়াবা রাহমাতিক” (আয় আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন)। আর বের হওয়ার সময় বলে: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাদলিক”।সহীহ মুসলিম ৭১৩
সুন্নাতডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করা: নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব ভালো কাজ ডান দিক থেকে শুরু করতে পছন্দ করতেন (সহীহ বুখারী ৪২৬)।
নামাজ

বাবে জিবরীল

পূর্ব দেয়ালের এই দরজাটি আম্মাজানগণ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুন্না উনাদের হুজরা শরীফের দিক থেকে মসজিদে প্রবেশের পথ। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দরজা দিয়ে আসা-যাওয়া করতেন, তাই একে বাবুন নবী এবং পরে বাবে উসমানও বলা হতো। সীরাতের বর্ণনা অনুযায়ী খন্দকের যুদ্ধের পর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম এই দরজার কাছে এসেছিলেন, সেজন্য পরে এর নাম হয় বাবে জিবরীল।

আম্মাজান আয়িশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা বলেন, খন্দক থেকে ফিরে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অস্ত্র রেখে গোসল করলেন। তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম এসে বললেন: আপনি অস্ত্র রেখে দিয়েছেন? আল্লাহর কসম, আমরা এখনো রাখিনি। ওদের দিকে চলুন — বলে বনু কুরাইযার দিকে ইশারা করলেন।সহীহ বুখারী ৪১১৭
সুন্নাতমসজিদে প্রবেশের সময় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর সালাম পাঠ করা, তারপর রহমতের দরজা খুলে দেওয়ার দোয়া পড়া (সুনানে আবু দাউদ ৪৬৫)।
মসজিদের জীবন

হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু উনার আযানের ছাদ

মসজিদে তখন কোনো মিনার ছিল না। হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু মসজিদের পাশের সবচেয়ে উঁচু ঘরের ছাদে উঠে ফজরের আযান দিতেন। ঘরটি ছিল বনু নাজ্জারের এক মহিলা সাহাবী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা উনার।

বনু নাজ্জারের এক মহিলা সাহাবী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা বলেন, মসজিদের চারপাশের ঘরগুলোর মধ্যে আমার ঘর ছিল সবচেয়ে উঁচু। হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু এর উপর ফজরের আযান দিতেন। উনি সাহরির সময় এসে ছাদে বসে ফজরের অপেক্ষা করতেন।সুনানে আবু দাউদ ৫১৯
সুন্নাতআযান শুনলে মুয়াজ্জিন যা বলেন তা-ই বলা (সহীহ বুখারী ৬১১)।